দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পিরোজপুরে ডিবি পুলিশের এক কর্মকর্তার টাকা চুরির অভিযোগে মো. ইউনুস ফকির (৪০) নামে এক কেয়ারটেকারকে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। তবে পরে অন্য এক কর্মীর কাছ থেকে ওই টাকা উদ্ধার হলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী ইউনুস ফকির পিরোজপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের খানাকুনিয়ারি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পিরোজপুর পুলিশ লাইনস এলাকায় অবস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের একটি মেসে অস্থায়ী কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করে আসছেন।
ইউনুসের অভিযোগ, গত সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে পিরোজপুর ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম তার কক্ষ থেকে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা চুরির অভিযোগ তুলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ইউনুস অভিযোগ অস্বীকার করলে তাকে হাতকড়া পরিয়ে মেসের নিচতলায় নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়। পরে আরও কয়েকজন ডিবি সদস্য এসে তাকে মারধর ও বৈদ্যুতিক শক দেয় বলে অভিযোগ।
নির্যাতনের এক পর্যায়ে তাকে জোর করে স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করা হয়। এমনকি তাকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে টাকা আদায়ের জন্য পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। পরে আবারও মেসে এনে নির্যাতন চালানো হয় বলে জানান ইউনুস।
তিনি দাবি করেন, এক পর্যায়ে তার শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে মোমবাতি জ্বালিয়ে নির্যাতন করা হয়।
পরিবারের সদস্যরা পরে টাকা জোগাড় করে দিলে তাকে পুলিশ সুপারের কাছে নেওয়া হয়। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে মেসের ঝাড়ুদার শাকিল চুরির কথা স্বীকার করে এবং তার কাছ থেকে টাকা উদ্ধার করা হয়। এরপর ইউনুসকে দেওয়া টাকা ফেরত দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
ইউনুস অভিযোগ করেন, ঘটনার পর তাকে যথাযথ চিকিৎসা না দিয়ে একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও পরে খুলনার একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে তাকে প্রকৃত ঘটনা গোপন রাখতে বাধ্য করা হয়।
এ ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন ইউনুস। তবে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে ভয় পাচ্ছেন বলে জানান তিনি। তার পরিবার এ ঘটনার সুষ্ঠ বিচার দাবি করেছে।
ইউনুসের ভাই আনিসুর রহমান বলেন, একজন অপরাধীকেও এভাবে নির্যাতন করা হয় না। আমরা এই ঘটনার বিচার চাই।
অভিযোগের বিষয়ে ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম ছুটিতে থাকার কথা জানিয়ে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) আব্দুল আউয়াল জানান, ঘটনা তদন্তে এক সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জে আই